আজ-  ,


সময় শিরোনাম:
«» মৌলভীবাজারে মা ও শিশুদের জন্য শেখ রাসেল স্টুডেন্ট এসোসিয়েশনের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প «» মৌলভীবাজারে আত্ম প্রকাশ করলো ভিন্ন ধারার অনলাইন নিউজ পোর্টাল আইন নথি। «» মৌলভীবাজারে বাল্য বিয়েতে ভূয়া জন্ম সনদ «» নওগাঁর ঐতিহ্যবাহী প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার অবশেষে খুলে দেয়া হলো। «» নোয়াখালীতে ভয়াবহ অগ্নকান্ড «» বেগমগঞ্জে শিশু ধর্ষনচেষ্টায় শিক্ষক গ্রেফতার «» নওগাঁ সাপাহারে হাটবার করে ইউনিয়ন পরিষদ সমূহে পুলিশী সেবা প্রদান। «» টিআইবি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি «» টিআইবি সংশোধিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি «» শ্রীমঙ্গলে নবজাগরণ ও প্রজেক্ট ওয়ান মিলিয়ন প্লান্টেশনের উদ্যোগে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি

সংসদীয় আসনভিত্তিক থোক বরাদ্দ: অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গবেষণার ওপর কিছু প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন ১: টিআইবি কেন এই গবেষণাটি পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে?
উত্তর: সাংবিধানিকভাবে সংসদ সদস্যেদের দায়িত্ব সংসদে আইন প্রণয়ন করা, নিজ নিজ এলাকার জনগণের প্রতিনিধিত্ব করা এবং সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। এর বাইরেও সংসদ সদস্যদেরকে নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকা-ে সম্পৃক্ত থাকতে দেখা যায়, ফলে সাধারণ মানুষের কাছে একটি প্রত্যাশা তৈরি হয় যে সংসদ সদস্যরা নির্বাচিত হয়ে এলাকার রাস্তা-ঘাট, স্কুল-কলেজ ইত্যাদি নির্মাণ করার ব্যবস্থা করে দেবেন। স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নে সংসদ সদস্যদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে সর্বপ্রথম ২০০৫-০৬ অর্থবছরে সরকার ও বিরোধী উভয় দলের সংসদ সদস্যদের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী প্রত্যেক সদস্যের অনুকূলে দুই কোটি টাকার তহবিল বরাদ্দের প্রস্তাব অনুমোদন করেন। পরবর্তী সময়ে আইআরআইডিপি ১ (২০১০ থেকে ২০১৫) প্রকল্পে সংসদীয় আসন প্রতি পাঁচ বছরে ১৫ কোটি টাকা এবং আইআরআইডিপি ২ (২০১৫ থেকে ২০২০) প্রকল্পে আসন প্রতি চার বছরে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ একনেকে অনুমোদন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, সংরক্ষিত আসনের ৫০ জন নারী সদস্য এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত নন।

স্থানীয় সরকার বিভাগের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে সংসদীয় আসনভিত্তিক থোক বরাদ্দের আওতাধীন এই ‘পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’-এর পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্যের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ সম্পৃক্ততা রয়েছে। এ ধরনের উন্নয়ন প্রকল্পে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রতিবেদন বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। উল্লেখ্য, টিআইবি ২০০৮ এবং ২০১২ সালে সংসদ সদস্যদের সম্পৃক্ততায় এলাকার উন্নয়ন কর্মকান্ডের ওপর সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসির মতামত এবং সার্বিক বাস্তবতাকে তুলে ধরে দুটি গবেষণা পরিচালনা করেছে। দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে টিআইবি জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন খাত ও প্রতিষ্ঠান নিয়ে গবেষণা ও অধিপরামর্শমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এরই ধারাবহিতকতায় জনগণের কাছে সংসদ সদস্যদের আচরণ ও কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে টিআইবি’র নিয়মিত গবেষণার অংশ হিসেবে বর্তমান গবেষণাটি সম্পন্ন হয়েছে।

প্রশ্ন: ২: এই গবেষণার জিজ্ঞাসাসমূহ কি কি ছিল?
উত্তর: এই গবেষণায় নি¤েœর প্রশ্নসমূহের উত্তর খোঁজার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে –
১. সংসদীয় আসনে থোক বরাদ্দ প্রকল্পের কী ধরনের নীতিমালা ও কৌশল এবং পদ্ধতিগত কাঠামো বিদ্যমান?
২. এ প্রকল্পের আওতায় গৃহীত স্কিমগুলোর সম্ভাব্যতা যাচাই প্রক্রিয়ায় সাধারণ জনগণের কী ধরনের অংশগ্রহণ ছিল?
৩. এ এ প্রকল্পের আওতায় গৃহীত স্কিম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ছিল?
৪. এ সকল স্কিম বাস্তবায়নে কোনো দুর্নীতি সংগঠিত হয়েছে কি? হলে কী ধরনের? এসব দুর্নীতি প্রতিরোধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?
৫. প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত স্কিমগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে কি?
৬. স্কিমগুলোর কাজ কি সম্পূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে? কাজের মান কেমন ছিল? বাস্তবায়িত স্কিমগুলো বর্তমানে কী অবস্থায় রয়েছে?

প্রশ্ন ৩: এই গবেষণার উদ্দেশ্য কি?
উত্তর: এই গবেষণার উদ্দেশ্য হলো গবেষণার মূল উদ্দেশ্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের স্কিমসমূহের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ প্রক্রিয়ায় সুশাসনের চ্যালেঞ্জ পর্যালোচনা করা।

এই গবেষণার কিছু সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য আছে –

 এই প্রকল্পের আইনি ও পদ্ধতিগত কাঠামো পর্যালোচনা করা;
 স্কিম পরিকল্পনায় এলাকার চাহিদা নিরূপণ ও স্কিমের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এলাকার জনগণের অংশগ্রহণ পর্যলোচনা করা;
 স্কিমসমূহের বাস্তবায়ন এবং পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা ও বিভিন্ন ধাপে চ্যালেঞ্জ পর্যালোচনা করা;
 স্কিম বাস্তবায়নে দুর্নীতি হয়েছে কি না এবং হলে তার ধরন ও মাত্রা এবং নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা; এবং
 গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফল ও অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতার আলোকে এই প্রকল্পের কার্যকরতা বৃদ্ধিতে ও বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ উত্তরণে সুপারিশ প্রস্তাব করা।

প্রশ্ন ৪: এই গবেষণায় কোন কোন বিষয়ের ওপর পর্যালোচনা করা হয়েছে ?

উত্তর: এই গবেষণার উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে সুশাসনের নির্দেশকের ভিত্তিতে গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহ হলো আইনি সক্ষমতা (প্রকল্প সম্পর্কিত আইন, নীতিমালা, কৌশল ও কাঠামো); স্বচ্ছতা (স্কিম পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের তথ্যসহ আর্থিক হিসাবের উন্মুক্ততা এবং স্কিম বাস্তবায়নে প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা); জবাবদিহিতা (স্কিমের কাজের মান পরিবীক্ষণ, স্কিম-সংশ্লিষ্ট অভিযোগ ব্যবস্থাপনা ও নিষ্পত্তি পদ্ধতি এবং প্রকল্পের সার্বিক পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন); অংশগ্রহণ (স্কিম তালিকাভুক্তিকরণে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণের চাহিদা ও মতামত গ্রহণ স্কিমসমূহের উপযোগিতা যাচাইয়ে জনমতামতের প্রতিফলন); দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ (স্কিম পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম-দুর্নীতির ধরন ও মাত্রা দুর্নীতি প্রতিরোধ ব্যবস্থা) ইত্যাদি বিষয়সমূহ পর্যালোচনা করা হয়েছে।

প্রশ্ন ৫: এই গবেষণার তথ্যের উৎস এবং পদ্ধতি কি?

উত্তর: এটি একটি মিশ্র পদ্ধতির (গুণবাচক ও পরিমাণবাচক) গবেষণা। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উভয় উৎস হতে এই গবেষণায় তথ্য সংগৃহীত হয়েছে। প্রত্যক্ষ তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে নমুনায়িত আসন সংশ্লিষ্ট উপজেলার সমাপ্ত স্কিমসমূহ থেকে নমুনায়িত স্কিম (আইআরআইডিপি – ১ এর ৪৬৪টি স্কিম এবং আইআরআইডিপি – ২ এর ১৬৪টি স্কিম; মোট ৬২৮টি স্কিম) চেকলিস্টের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এই গবেষণায় পদ্ধতিগত স্তরভিত্তিক দৈবচয়ন ব্যবহার করে সার্বিকভাবে নমুনায়ন করা হয়েছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, ঠিকাদার, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ, সংসদ সদস্য, সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটির সভাপতি/সদস্য, গণমাধ্যম কর্মীদের সাক্ষাৎকার এবং স্কিম সংশ্লিষ্ট এলাকার উপকারভোগী জনগণের (কৃষক, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, অন্যান্য পেশাজীবী) সাথে দলীয় আলোচনার মাধ্যমে তাদের নিকট হতে তথ্য সংগৃহীত হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান থেকে সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন স্কিম সম্পর্কিত সাধারণ তথ্য (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন) সংগ্রহ করা হয়েছে। পরোক্ষ তথ্যের জন্য প্রকল্প সংশ্লিষ্ট নথি/প্রতিবেদন, আইন, বিধি, ওয়েবসাইট ও সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন, সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিবেদনসমূহ পর্যালোচনা করা হয়েছে।

প্রশ্ন ৬: এই গবেষণার সময়কাল কি?

উত্তর: ২০১৯ সালের মে থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত গবেষণার তথ্য সংগ্রহ; ২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন প্রণয়ন করা হয়েছে।

প্রশ্ন ৭: গবেষণায় বিশ্লেষিত তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা ও যথার্থতা কতটুকু?

উত্তর: এ গবেষণায় বিশ্লেষণকৃত তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা ও যথার্থতা এবং সংগৃহীত তথ্যের মধ্যে সামঞ্জস্যতা পর্যবেক্ষণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের বিভিন্ন স্তর ও পর্যায়সহ সম্ভাব্য সকল সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করা হয়েছে। এছাড়া বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে পদ্ধতিগত দৈবচয়নের মাধ্যমে নমুনা বাছাই করে তথ্য সংগ্রহ করার ফলে গবেষণায় বিশ্লেষণকৃত ফলাফলসমূহ পরিসংখ্যানের পদ্ধতিগত মাপকাঠিতে পূর্ণ নির্ভরযোগ্য।

প্রশ্ন ৮: এই গবেষণার সার্বিক পর্যবেক্ষণসমূহ কি কি?
উত্তর: এই প্রকল্প সংসদ সদস্যের একাংশের জন্য স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক ক্ষমতার চর্চা, নির্বাচনে ভোট নিশ্চিত করার চেষ্টা ও অনৈতিকভাবে অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জনের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কার্যকর তদারকি, প্রকল্পের সার্বিক মূল্যায়ন, এবং সংসদ সদস্যের সততা ও স্বার্থের দ্বন্দ্ব সম্পর্কিত সুনির্দিষ্ট আচরণ বিধির অনুপস্থিতি অনিয়ম-দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণকে আরও উৎসাহিত করছে। সংশ্লিষ্ট আসনের সংসদ সদস্য কাজের অগ্রগতি তদারকি ও অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য উদ্যোগ নিলেও সদস্যদের একাংশ রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও আর্থিক সুবিধা প্রাপ্তির জন্য বিভিন্ন অনিয়মকে প্রশ্রয় দেন, ফলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি ব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ। প্রকল্পের কয়েকটি লক্ষ্য থাকলেও কেবল অবকাঠামো উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট স্কিম পরিকল্পনা ও বাস্তবায়িত হয়েছে। সুনির্দিষ্ট নীতিকাঠামো/ কৌশলের ঘাটতি এবং আসনভিত্তিক স্কিম সম্পর্কিত তথ্যসহ প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য জনগণের জন্য প্রাতিষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করার ঘাটতি লক্ষণীয়। স্কিম তালিকাভুক্তিসহ এলাকাভেদে স্কিমের উপযোগিতা যাচাইয়ে সাধারণ জনগণের সরাসরি মতামত দেওয়ার সুযোগের ঘাটতি রয়েছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের পারস্পরিক সুবিধার সমঝোতা সম্পর্কের কারণে স্কিমের কাজের মান প্রত্যাশিত পর্যায়ের নয়, ফলে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় হচ্ছে ইত্যাদি বিষয়সমূহ পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

প্রশ্ন ৯: এই গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে মূল সুপারিশসমূহ কি কি?
উত্তর: এই গবেষণার পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে সংসদীয় আসনভিত্তিক থোক বরাদ্দে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সুশাসনের চ্যালেঞ্জসমূহ চিহ্নিত করা এবং তা থেকে উত্তরণে টিআইবি ৯ দফা সুপারিশ উত্থাপন করে। উল্লেখযোগ্য সুপারিশসমূহ হলো-

ক্স ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত সংসদীয় আসনে থোক বরাদ্দের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর পৃথকভাবে নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করতে হবে। প্রকল্পগুলোর দুর্বলতা চিহ্নিত করতে হবে, কার্যকরতা বৃদ্ধির সুযোসমূহর বিস্তারিত বিবরণ তৈরি করা, এবং এই তথ্য পরবর্তী প্রকল্প পরিকল্পনায় ব্যবহার করা;
ক্স এ প্রকল্পের আইনি কাঠামো বা নীতিমালা সুনির্দিষ্ট করা, যেখানে স্কিম নির্বাচন প্রক্রিয়া, ভৌগোলিক অবস্থান এবং উপযোগিতা অনুযায়ী স্কিমের নকশাসহ এলাকা ও চাহিদা ভেদে বরাদ্দ বণ্টনের পূর্বশর্ত, এবং বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার বিস্তারিত নির্দেশনা থাকা;
ক্স স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট সমন্বয় কমিটিতে স্থানীয় জনগণের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি করা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় দলীয় রাজনৈতিক প্রভাব হ্্রাস করা;
ক্স স্কিম এলাকায় কাজ চলাকালীন তথ্যবোর্ড স্থাপন করা, যেখানে স্কিমের বিবরণ, বাজেট, সময়সীমা, প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের নাম ও যোগাযোগের নম্বর ইত্যাদি থাকতে হবে;
ক্স এই প্রকল্পের সব ধরনের তথ্য (নীতিমালা, আসনভিত্তিক স্কিমের তালিকা, সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রতিবেদন, বাজেট, স্কিম বাস্তবায়নের অগ্রগতির বিবরণ) একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ ও নিয়মিত হালনাগাদ করা; এবং
ক্স জনপ্রতিনিধিদের রাজনৈতিক শুদ্ধাচার চর্চার পাশাপাশি দুর্নীতির প্রবণতা ও সুযোগ হ্রাস করার জন্য কার্যকর জবাবদিহি ব্যবস্থা (জনপ্রতিনিধিদের আচরণ বিধি, তাদের কর্মকা-সহ আর্থিক হিসাবের বিবরণ উন্মুক্তকরণ, তাদের সম্পৃক্ততায় বাস্তবায়িত উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য এলাকাভিত্তিক গণশুনানি ইত্যাদি) প্রবর্তন করা ইত্যাদি।

প্রশ্ন ১০: এই গবেষণায় সংসদ সদস্যের ক্ষেত্রে দুর্নীতির যে আর্থিক প্রাক্কলন দেখানো হয়েছে তা কতটা যুক্তিযুক্ত?
উত্তর: গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ৮৬% আসনে সরাসরি দলীয় তহবিলে (এককালীন) অথবা সংসদ সদস্যের একাংশ কর্তৃক ব্যক্তিগতভাবে সহকারীর মাধ্যমে নির্দিষ্ট হারে (১% – ২%) ঠিকাদারের কাছ থেকে কমিশন গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। এলাকা এবং ঠিকাদারের সাথে ক্ষমতাসীন দলের সম্পর্ক ভেদে সরাসরি দলীয় তহবিলে (এককালীন) অনুদানের পরিমাণের বিভিন্নতা রয়েছে যার সঠিক পরিমাণ জানা যায়নি। এই তথ্যসমূহ সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থানীয় পর্যায়ে ঠিকাদার, সংবাদকর্মী ও অন্যান্য অংশীজনদের সাথে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে প্রাপ্ত। যেহেতু এই গবেষণাটির নমুনা নির্বাচনে পরিসংখ্যানগত পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে এবং নমুনা স্কিমের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রাক্কলনটি করা হয়েছে, ফলে এই গবেষণার আওতাভুক্ত এলাকার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যের একাংশের জন্য এই প্রাক্কলনটি আর্থিক দুর্নীতির চিত্র সম্পর্কে ধারণা দেয়।

প্রশ্ন ১১: এ গবেষণায় প্রাপ্ত অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য সকলের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য কি?
উত্তর: এই গবেষণা প্রতিবেদনে উপস্থাপিত প্রাপ্ত তথ্য ও ফলাফল গবেষণায় সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনদের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য নয়, তবে উপস্থাপিত তথ্য সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জসহ অনিয়ম ও দুর্নীতির সম্পর্কে একটি ধারণা দেয়।

প্রশ্ন ১২: টিআইবি কর্তৃক প্রকাশিত প্রতিবেদন কি সকলের জন্য উন্মুক্ত?
উত্তর: টিআইবি স্বপ্রণোদিতভাবে তথ্য প্রকাশের নীতি অবলম্বন করে থাকে। টিআইবি’র কাঠামো, ব্যবস্থাপনা, কর্মকৌশল ও পরিকল্পনা, চলতি কার্যক্রম, প্রতিবেদন ও মূল্যায়ন, সকল পলিসি সংক্রান্ত নথি, বাজেট, অর্থ ও হিসাব সম্পর্কিত সকল তথ্য জনগণের জন্য উন্মুক্ত ও টিআইবি’র ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়। এছাড়া জনগণের তথ্য অধিকারের অংশীজন হিসেবে এবং তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ অনুসারে টিআইবি’র তথ্য সরবরাহের জন্য নির্ধারিত তথ্য কর্মকর্তা রয়েছেন। এ প্রতিবেদন সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে চাইলে ফোন বা ই-মেইলের মাধ্যমে উক্ত তথ্য কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে: ম্যানেজার, রিসোর্স এন্ড ইনফরমেশন সেন্টার, ফোন: ০১৭১৩-০৬৫০১৬, ই-মেইল: রহভড়@ঃর-নধহমষধফবংয.ড়ৎম