আজ-  ,


সময় শিরোনাম:
«» কুলাউড়ায় কবি সাহিত্যিক ও লেখক পরিষদের জেলা নেতৃবৃন্দকে সংবর্ধনা «» সুস্থ ও নিরাপদ ব্যাংকিং ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় ১০ দফা সুপারিশ টিআইবির «» ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর কর্তৃক তদারকি অভিযান «» নওগাঁ সাপাহারে ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপক মহড়া অনুষ্ঠিত। «» নওগাঁয় সিভিল সার্জনের সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত। «» আসুন সবাই হাঁটা ও সাইকেলে ফিরি, বাসযোগ্য প্রকৃতিবান্ধব নগর গড়ি’—শেখ আরিফ «» ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) «» পর্তুগালে বিদায়ী রাষ্ট্রদূতকে আ.লীগের সংবর্ধনা ★ «» রাজনগরে কুয়েত প্রবাসীর উপর সন্ত্রাসী হামলা «» বৈরাগী-সিংগেরকাছ বাজার রাস্তা সংস্কারের দাবীতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

রাজনগরের কামারচাকে পল্লী বিদ্যুতায়ন নিয়ে তেলেছমাতি কারবার

শ. ই. সরকার জবলু, মৌলভীবাজার ঃ মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার কামারচাক গ্রাম ও তৎসংলগ্ন এলাকায় পল্লী বিদ্যুতায়ন নিয়ে তেলেছমাতি কারবার চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জানা গেছে- বিদ্যুতায়ন কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারের লোকজন, স্থানীয় ইলেকট্রিশিয়ান ও দালালরা একজোট হয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায় কায়েম করেছে অনিয়ম-দূর্ণীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার রামরাজত্ব। বিদ্যুতের খুটি স্থাপণ থেকে শুরু করে গৃহে সংযোগ স্থাপণ পর্যন্ত প্রায় সবকিছুই হয়েছে অবৈধ লেনদেনের ভিত্তিতে। অবৈধ লেনদেনের বিনিময়ে সংশ্লিষ্টদের পছন্দ বা সুবিধানুযায়ী খুটি স্থাপনসহ সব কাজ করা হয়েছে। অপরদিকে, অবৈধ লেনদেনে ব্যর্থদের ক্ষেত্রে যেনতেন রকমভাবে কাজ করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কাজ না করে, কাজ অসম্পূর্ণ রেখে বা পরিত্যক্ত করে রাখা হয়েছে।
সরেজমিন কামারচাক গ্রাম ও তৎসংলগ্ন এলাকায় ঘুরে এসব অনিয়ম-দূর্ণীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার চাক্ষুস প্রমান পাওয়া গেছে। দেখা গেছে- বিদ্যুতের খুটি বসানোর জন্য গর্ত করা হয়েছে রাস্তার ঠিক মধ্যখানে। স্থানীয় লোকেরা রাস্তার পাশে সুবিধাজনক স্থান দেখিয়ে সেখানে খুটি বসানোর অনুরোধ করলে তারা এজন্যে টাকা দাবী করে। দাবীকৃত টাকা না দেয়ায় ঠিকাদারের লোকেরা কাজ পরিত্যক্ত করে চলে গেছে। খুটি বসানোর উপযুক্ত ও সুবিধাজনক স্থান থাকা সত্তেও ধানীজমির মধ্যে এলামেলোভাবে খুটি বসানো হয়েছে। প্রায় প্রতিটি গৃহে মিটার স্থাপনের জন্যও অর্থ আদায় করা হয়েছে। ভূমির মালিকানা ছাড়াই শুধুমাত্র এক কপি ছবি এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ছায়ালিপির ভিত্তিতেই সংযোগ প্রদান করার ঘটনাও রয়েছে কয়েকটি। স্থানীয় একব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন- তিনি প্রবাসে থাকেন। কিছুদিন আগে বাড়িতে এসে দেখতে পান তার ভূমি জবরদখল করে বাড়ী নির্মান করেছে স্থানীয় আরেক ব্যক্তি। এ নিয়ে বিরোধ চলমান রয়েছে। ওই ভূমিতে স্থায়ী বিদ্যুৎ সংযোগ নেয়ার জন্যে জবরদখলকারীরা ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র ও টাকা প্রদান করেছে প্রকাশ্যে। ভূক্তভোগীরা জানিয়েছেন- অনিয়ম-দূর্ণীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার মূল নায়ক স্থানীয় দালাল আদমপুর গ্রামের ইয়াবর মিয়ার পুত্র ময়নুল ইসলাম ও ইলেকট্রিশিয়ান খালেক। তারা কামারচাক ও কামারচাক পশ্চিম (মালীপাড়া) এলাকার মতি মালাকারের কাছ থেকে ১৮৫০ টাকা, কাজল মালাকারের কাছ থেকে ১৮৫০ টাকা, দয়া মালাকারের কাছ থেকে ২০০০ টাকা, মেরাজ উল্যার কাছ থেকে ২১৫০ টাকা, অজয় মালাকারের কাছ থেকে ১৫০০ টাকা, অরুণ মালাকারের কাছ থেকে ১৫৫০ টাকাসহ সোনাভান বিবি মোঃ উমেদ, মিজান, সাজিদ, খালিছ, ওয়াহিদ, মতিন, সাহান, নিহারুন বেগম, রফিক, মনুর, আঃ নুর প্রমুখ বহুলোকের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা আদায় করেছে। তদন্তে এসব ঘটনার সত্যতা পেয়ে মৌলভীবাজার পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির রাজনগর অফিসের এজিএম ওবায়দুল ইলেকট্রিশিয়ান খালেককে গত ২০/০৯/২০১৭ইং বরখাস্ত করেন বলেও তারা জানান।